বরিশাল নগরীতে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় আড়াই কোটি টাকার চার শতাধিক সিসি ক্যামেরা। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নগরবাসী। সচেতন মহল বলছে, যে কোনো বাজেট পরিকল্পনার সময় তা বাস্তবায়নের পরবর্তী সময়ের রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও বরাদ্দ রাখা উচিত। এদিকে সিটি কর্পোরেশনের দাবি, নতুন ভাবে এসব ক্যামেরা সচল করতে কাজ চলছে।
নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাগুলোর বর্তমান চিত্র এমনই। সড়কের মাঝখানের আইল্যান্ডের স্ট্যান্ডের সাথে লাগানো বেশিরভাগ সিসি ক্যামেরার অস্তিত্বই নেই। আর যেগুলো আছে সেগুলোও ভেঙ্গে ঝুলে আছে অথবা উলটো হয়ে আছে মাটির দিকে না হয় আকাশের দিকে। মেশিনগুলোর বক্স থাকলেও নেই ভেতরের কোনো যন্ত্রাংশ।
বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ২০১৭ সালে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে এই সিসি ক্যামেরাগুলো স্থাপন করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যে এসব ক্যামেরার প্রায় ৮০ ভাগ সংযোগ ক্যাবল চুরি হয়ে যায়। আবার বেশকিছু ক্যামেরায় কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এসব ক্যামেরা এখন সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়ে আছে।
নগরীর বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক স্থাপন করা হয়েছিল এরকম চারশোরও অধিক সিসি ক্যামেরা যা যথাযথ তদারকির অভাবে দিন দিন বিকল হয়ে পড়েছে।
একজন পথচারী বলেন, ‘কোন দুর্ঘটনা ঘটার পর দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে এসব ক্যামেরা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
আরেকজন বলেন, ‘ক্যামেরাগুলো সচল থাকলে অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।’
নগরী-জুড়ে চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কার্যক্রম বেড়েছে বলে মনে করেন পরিবেশ ও জন সুরক্ষা ফোরামের নেতারা। তাই ক্যামেরাগুলো পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি যেকোনো বাজেট পরিকল্পনার সময় তা বাস্তবায়নের পর রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও বাজেট বরাদ্দ রাখা উচিত বলে মনে করেন তারা।
বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জন সুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর শুভ বলেন, ‘৯০ শতাংশ ক্যামেরাই এখন আর কাজ করে না। সংগত কারণেই এখন অপরাধের প্রবণতা বেড়ে গেছে। যখন কোন বাজেট আসে, যখন কোন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, তার ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে সেটি করা হয় না। এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাজেট থাকা উচিত।’
সিটি কর্পোরেশন বলছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে ক্যামেরাগুলোর এমন হাল। তবে নতুন করে এগুলো সচল করতে ডাটা বেজ ও বাজেটের জন্য কাজ চলমান রয়েছে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, ‘মেট্রোপলিটন পুলিশের কিছু ক্যামেরা আছে, এখন পর্যন্ত আমাদের নেই। এগুলোর জন্য কত টাকা লাগবে, কীভাবে আমরা এগুলো নতুন করে সচল করতে পারব তা নিয়ে আমরা একটা ডকুমেন্ট প্রস্তুত করছি। যদি আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে হয় তাহলে আমরা নিজেরা করে ফেলব।’
বর্তমানে পুলিশের পক্ষ থেকে স্থাপন করা কিছু ক্যামেরার মাধ্যমে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলছে। তবে সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত ক্যামেরাগুলো প্রতিস্থাপন করলে নগরে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কার্যক্রম কমে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
Comments
LEAVE A REPLY
Your email address will not be published